যে ২৭টি টিপস ভুটান ভ্রমণে অবশ্যই মনে রাখতে হবে !!

February 19, 2018
Travel Tips

 ১। ভুটানের পর্যটন মৌসুম হল বসন্ত (মার্চ-মে) এবং শরৎকাল (সেপ্টেম্বর-নভেম্বর) বিশেষ করে মার্চ, এপ্রিল, অক্টোবর এবং নভেম্বর বিশেষ করে ব্যস্ত। আপনি যদি এই মাস গুলোর মধ্যে বেড়ানোর জন্য ভাবছেন, তাহলে আপনার রিজার্ভেশন নিশ্চিত করার জন্য কমপক্ষে ২ মাস আগে ফ্লাইট টিকেট বুকিং করা ভাল। আর আপনি যদি তুষারপাত উপভোগ করতে চান তাহলে ডিসেম্বর – ফেব্রুয়ারীর মধ্যে বেড়াতে যেতে পারেন। বাংলাদেশ থেকে বাইরোডে ভুটান যেতে চান তবে আগে ভাগে ভারতের ট্রানজিট ভিসা করে নিতে হবে।

যেমন, ২০১০ সালে, Druk air এর টিকেট পরপর ৩ সপ্তাহের জন্য বিক্রয় হয়ে যায়, তাই আমরা অগ্রিম পরিকল্পনা করার পরামর্শ দেই। বেশীরভাগ ইউরোপিয়ান ও এশিয়ান পর্যটক এই সময়ের মধ্যে ভ্রমণ করে, কারণ এই মাস গুলো হল উৎসব এবং ট্রেকিং এর জন্য আদর্শ মাস, যা স্বাভাবিকভাবেই বড় আকর্ষণ। যদি আপনি পর্যটকের ভিড় এড়িয়ে চলতে চান, তবে অফ-সিজনে ভ্রমণ করতে পারেন।

২. বেশিরভাগ হোটেলে ওয়াইফাই আছে তবে অনেক দুর্বল। তাই আপনার যদি আরও বেশি সংযোগের প্রয়োজন হয় তবে আপনি টাসি সেল বা বি-মোবাইল থেকে স্থানীয় সিম কার্ড কিনতে পারেন এবং প্রিপেইড কার্ডের মাধ্যমে রিচার্জ করতে পারেন।

৩. ভুটানের রাষ্ট্রীয় ভাষা ঝংখা, কিন্তু ভুটানের অধিকাংশ মানুষ ইংরেজিতে পারদর্শী কারন তাদের শিক্ষার মাধ্যম ইংরেজিতে, তাই যোগাযোগ করতে কোন সমস্যা হবে না। তাছাড়া অনেকেই হিন্দি ভাষায় কথা বলতে পারঙ্গম।

৪. ভুটানের স্থানীয় মুদ্রাটি নগলট্রাম, যা ভারতীয় রুপির সাথে পরিমাপ করা হয়। দ্রষ্টব্য: ৫০০ এবং ১০০০ মূল্যের ভারতীয় মুদ্রা আর ভুটানে গৃহীত হয়না।

৫. ভ্রমনের প্যাকেজগুলি প্রিপেইড হিসাবে, কিন্তু আপনার নিজের ব্যক্তিগত ব্যয়ের জন্য শুধুমাত্র অর্থের প্রয়োজন হবে যেমন – সুভেনির , টিপস (ড্রাইভার ও গাইডের জন্য) এবং পানীয়। তাই অতিরিক্ত অর্থ সাথে রাখবেন ব্যক্তিগত খরচের জন্য। কমপক্ষে ১৫০ ডলার সাথে রাখতে পারেন।

৬. ভুটানে এটিএম বুথ আছে, কিন্তু শুধুমাত্র প্রধান শহরে। মনে রাখবেন, এটিএম সবসময় কাজ করে না এবং যদিও কাজ করে তবে সাধারণত শুধুমাত্র অল্প পরিমাণে উইথড্র করতে সক্ষম।

৭. বেশিরভাগ হোটেল এবং হস্তশিল্পের দোকানগুলিতে পর্যটকরা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে অর্থ প্রদান পারবেন।

৮. ভুটান বিশ্বের একমাত্র দেশ যে ধূমপান এবং তামাক বিক্রয় নিষিদ্ধ করেছে, যার ফলে পাবলিক প্লেসে ধূমপান নিষেধ। যদিও, ভুটানে সম্পূর্ণভাবে ধূমপান নিষিদ্ধ না, যদি আপনি ধূমপান করতে চান, আপনার নিজের সিগারেট নিয়ে যান এবং আপনার গাইডকে জিজ্ঞেস করুন যে কোথায় আপনি ধূমপান করতে পারবেন।

৯. মঙ্গলবার ‘শুকনো দিন’ জাতীয় দিবস হিসাবে বিবেচিত হয়, এইদিন অ্যালকোহল বিক্রয় নিষিদ্ধ।

১০. গরম কাপড় প্যাক করুন, বিশেষ করে যদি আপনি নভেম্বর থেকে মার্চ মাসের মধ্যে ভ্রমণ করেন। একটি সাধারণ টিপস হিসাবে, ভূটান ভ্রমণের সময় গরম কাপড় কিংবা জ্যাকেট সঙ্গে রাখুন। কান টুপি, মাফলার, হাত মৌজা সাথে রাখতে পারেন।

১১. ফ্লাইট এবং ট্রিপের জন্য আপনার নিজস্ব কিছু বিনোদন রাখতে পারেন। আপনার ল্যাপটপ বা ট্যাবলেটটি তে দেখার জন্য কিছু সিনেমা সংরক্ষণ করতে পারেন কিংবা কিছু বই আনুন। থিম্পু ও পারু ছাড়া নাইট লাইফ নেই বললেই চলে এবং বেশিরভাগ হোটেল মূল শহর থেকে দূরে অবস্থিত। ভুটানের হোটেলে আপনি থাইল্যান্ড কিংবা মালয়শিয়ার হোটেল এর মতো জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশ আশা করতে পারেন না।

১২. গান শুনতে চান? পশ্চিমা গানগুলির জন্য সেরা রেডিও স্টেশনগুলি রয়েছে 92, 965 এবং 99.9 এফএম। আপনি রেডিওতে অন্যান্য স্থানীয় স্টেশনগুলিতে স্থানীয় সঙ্গীত উপভোগ করতে পারেন।

১৩. আপনি বেশিরভাগ দোকানের মধ্যে দরদাম করতে পারেন তবে ১০% ডিসকাউন্ট আশা করবেন না। সাধারণভাবে বলতে গেলে, দোকানগুলির মধ্যে দামের পার্থক্য খুব বেশী হয় না। শপিং এর জন্য পারু মোটামুটি সস্তা।

১৪. পশ্চিমা দেশগুলির মত রেস্তোরাঁ ও হোটেলগুলিতে টিপস দিতে হবে না। গাইড আপনার পক্ষে টিপিং এর যত্ন নেবে। তবে, আপনার গাইডকে টিপস করতে ভুলবেন না।

১৫. ভুটানের রাস্তাগুলোতে প্রচুর বাতাস থাকে, তাই আপনার যদি মোশন সিকনেস থাকে তবে ভুটানের ভেতরে ভ্রমণের সময় ব্যথানাশক, ঠাণ্ডার বা অন্যান্য ঔষধ নিয়ে আসুন। সাথে আপনার প্রয়োজনীয় ঔষধ সাথে রাখুন।

১৬. একটি মাল্টিপ্লাগ এবং একটি ইউনিভার্সাল অ্যাডাপ্টারের সাথে রাখবেন। অধিকাংশ হোটেল রুমে সীমিত বিদ্যুৎ প্লাগ আছে, তাই আপনার কাছে অনেকগুলি ডিভাইস থাকলে মাল্টিপ্লাগ এবং একটি ইউনিভার্সাল ভ্রমণ অ্যাডাপ্টার সাথে নিয়ে আসা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

১৭. ডজং, মঠ, মন্দির বা অন্য কোন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছবি তোলার সময় আপনার নির্দেশিকাটি চেক করে দেখুন তা ছবি তুলতে অনুমোদন দেয় কিনা, যেমন কিছু এলাকায় ছবি তোলা নিষেধ।

১৮। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান যেমন ডজং, মঠ, মন্দির গুলোতে বেড়ানোর সময় শালীন পোশাক পড়ুন। লম্বা প্যান্ট, লম্বা হাতাওয়ালা শার্ট, মহিলাদের ক্ষেত্রে শালীন পোশাক পড়া বাঞ্ছনীয়।

১৯. ভুটানে খাবার নিয়ে বাংলাদেশিদের সমস্যা হবে না। তাদের রান্নার ধরন অনেকটা আমাদের দেশের মতো। তারা খাবারে ঝাল বেশি খায়। আহামরি কিছু আশা করবেন না ভুটানে খাবারের বেলায়। সচরাচর সকালে রুটি, ডিম, সবজি, জেলি থাকে। দুপুর এবং রাতের খাবারে ভাত, মাছ, মুরগির মাংস, গরুর মাংস, সবজি, সালাদ থাকে। খাবার অপচয় করবেন না। খাবার অপচয় ব্যাপারটি তাঁরা ভালভাবে নেয় না।

২০. টাইগার নেস্টে বেড়াতে গেলে সারাদিন সময় হাতে নিয়ে যাওয়া ভাল। পারু থেকে দূরত্ব ১০ কিমি এবং পৌছুতে ২০ মিনিটের মতো লাগে। গড়ে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা লাগে রাউন্ড হাইকিং করতে, আর আশ্রমে ঘুরে দেখতে ১ ঘণ্টা লাগে। তাই সকাল ৮ টায় বের হয়ে বিকাল ৩ টায় হোটেলে ফিরতে পারবেন।

২১। যত্রতত্র ময়লা ফেলবেন না। ভুটান অনেক বেশি পরিস্কার একটি দেশ। যত্রতত্র মুত্র ত্যাগ করবেন না। ইহা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

২২। পাসপোর্ট সাইজের কমপক্ষে ০২ কপি রঙ্গিন ছবি সাথে রাখবেন।

২৩। সকল প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র যেমন, টিকেট, হোটেল বুকিং, এবং ভ্রমণ পরিকল্পনা কাগজপত্র সঙ্গে রাখুন।

২৪। অবশ্যই অরিজিনাল পাসপোর্ট সাথে আনতে হবে। পাসপোর্টের মেয়াদ ভ্রমণ শুরু হবার সময় থেকে কমপক্ষে ৭ মাস থাকতে হবে। অন্যথায় ভ্রমণ সংক্রান্ত কোন প্রকার জটিলতা তৈরি হলে কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না।

২৫। কাচি, নেইল কাটার, টুথ পেস্ট, বডি স্প্রে, শ্যাম্পু জাতীয় দ্রব্য হ্যান্ড ব্যাগে বহন করা যাবে না। এগুলো বড় লাগেজে বহন করবেন।

২৬। ভ্রমণ উপযোগী জুতা ব্যবহার করবেন। ভাল মানের কেডস হলে সবচেয়ে ভাল হয়। কারন দীর্ঘক্ষণ ভ্রমণে কেডস উপযোগী। বেশি হিল ওয়ালা জুতা ব্যবহার না করাই ভাল।

২৭। ভুটানে কোন মসজিদ নেই। তাই নামাজ আদায় করতে চাইলে জায়নামাজ সাথে নিয়ে যাবেন।

ভুটানের প্যাকেজ সম্পর্কে জানতে আমাদের অনুরোধ জানাতে লিংকে ফর্ম ফিলআপ করতে পারেন https://goo.gl/forms/IFlqXOFdrxk2BS4C2

#happytraveling #bhutan #discoverholidaysbd 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: